যশোরে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ও দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে অভয়নগর উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে তিনি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক ও মানবিক কর্তব্যও। দুর্যোগের এই সময়ে কোনো মানুষ যেন অনাহারে বা কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্থানীয় বিত্তবান, সামাজিক সংগঠন ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চেঙ্গুটিয়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগকালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয় স্কুল শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন জনপ্রতিনিধির বড় দায়িত্ব। অধ্যাপক গোলাম রসুল চেঙ্গুটিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও সাহস জুগিয়েছে।

এলাকার ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই উদ্যোগে অনেক অসহায় পরিবার উপকৃত হয়েছে। আমরা তাঁর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা কামনা করি।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।

দুর্যোগের এই সময়ে মানবিক সহায়তার এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।