মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল। নরসিংদীর মাধবদীতে বর্ষার আগমনে কদম, রজনীগন্ধা, দোপাটি, গন্ধরাজ, বেলি, জুঁই ও কামিনীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটতে শুরু করেছে চালতা ফুল। শুভ্র সাদা রঙের এ সুগন্ধি ফুলের ব্যাস সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার। ফুলে থাকে পাঁচটি মোটা পাপড়ি, যা বৃতিদল দিয়ে ঘেরা। সাদা পাপড়ি, হলুদ পরাগ ও তারকাকৃতির গর্ভদণ্ডের মনোমুগ্ধকর সমন্বয়ে চালতা ফুল প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন মাধবদীর প্রকৃতিপ্রেমীরাও। মাধবদীতে কদমের পর বর্ষার অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠেছে চালতা ফুল। চালতা ফুল খুবই ক্ষণস্থায়ী। ভোরে ফোটা ফুলের পাপড়ি সন্ধ্যার আগেই ঝরে পড়ে। তাই এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে দুপুরের আগেই দেখতে হয়। ফলে হঠাৎ করে এ ফুলের দেখা পাওয়া যেন এক বিশেষ আবিষ্কারের আনন্দ এনে দেয়।

নরসিংদী জেলার মাধবদীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামীণ পথ, বাড়ির আঙিনা, অফিস-আদালত প্রাঙ্গণ এবং পুকুর-জলাশয়ের আশপাশে থাকা চালতা গাছগুলো এখন ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে। গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা সাদা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। শিশুদের অনেকেই খেলাধুলার অনুষঙ্গ হিসেবেও বেছে নিচ্ছে এই ফুল। চালতা ফুলের সৌন্দর্য বাংলা সাহিত্যের কবিদেরও মুগ্ধ করেছে। কবি জীবনানন্দ দাশ তার সেই দিন এই মাঠ কবিতায় লিখেছেন- ‘আমি চলে যাব বলে, চালতা ফুল কি আর ফুটিবে না শিশিরের জ্বলে নরম গন্ধের ঢেউয়ে?’। একইভাবে কবি বিষ্ণু দে লিখেছেন- ‘আকাশ নীলের তারাখোচা পথে বৃষ্টি পড়ে/ চালতা ফুলে ফলের বাগান মোদির করে’। জানা গেছে, মূলত বর্ষা ঋতুতেই প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফোটে চালতা ফুল। সাধারণত আষাঢ় মাসে এ ফুলের দেখা মেলে।

চালতার বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica।

শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ গাছ জন্মে। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের একটি পরিচিত বৃক্ষ। মাধবদী পৌর শহরের ৫ ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার বুশরা বলেন, ‘চালতা ফুল বর্ষার আগমনী বার্তা বহন করে। এই ফুল দিয়ে চুলের খোঁপা সাজাতে তাঁদের ভালো লাগে। তাঁরা মনে করেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় চালতা গাছ বেশি করে রোপণ করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামী প্রজন্ম এ বৃক্ষের অপরূপ সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবে’। মাধবদী প্রাইম জেনারেল হাসপাতালের এম ডি মহসিনুল হক বলেন, ‘চালতা শুধু টক স্বাদের ফল নয়, এটি পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণেও সমৃদ্ধ। চালতার আচার, চাটনি ও টক ডাল অনেকেরই প্রিয়। এছাড়া চালতার ফল লবণ ও মরিচ দিয়ে মাখিয়ে খেতেও বেশ সুস্বাদু। চালতা একটি মাঝারি আকারের চিরহরিৎ ফলজ বৃক্ষ’। সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর মাধবদী শাখার সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘বর্ষাকালেই প্রকৃতিতে চালতা ফুলের মূল সৌন্দর্য ধরা দেয়। এই ফুলের সঙ্গে গ্রামবাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এখন অনেক সময় অসময়েও চালতা ফুল ফুটতে দেখা যায়’।