বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)'র হিসাব বিভাগে সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. রুহুল আমিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ব্রির প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ব্রি কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সূত্রের দাবি, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. রুহুল আমিনের দপ্তরে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, সিনিয়র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. কাউসার আহমেদ এবং ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগে হিসাব বিভাগের অ্যাকাউন্টস অফিসার আনোয়ারুল আজিম ও মো. আনোয়ার হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি বিভিন্ন আর্থিক ব্যয়, বিল-ভাউচার ও সম্মানী সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ায় সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, 'পার্টনার' প্রকল্পের ভ্রমণ বিল, সরকারি যানবাহারের ব্যবহার এবং বিভিন্ন সভার সম্মানী প্রদানের বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়ে কয়েকটি ফাইল আটকে দেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত ১৬ জুলাই নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, পরবর্তী সময়ে সংঘটিত ঘটনাটি সেই উত্তেজনার ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ব্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গবেষণাকেন্দ্রিক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে ব্রি কর্তৃপক্ষ একই দিন এক অফিস আদেশে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ধানভিত্তিক খামার বিন্যাস বিভাগের প্রধান ড. মো. ইব্রাহিম-কে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন খামার যন্ত্রপাতি ও ফলনোত্তর প্রযুক্তি বিভাগের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. গোলাম কিবরিয়া ভূঞা এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মনজুর কাদির, যিনি সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
অফিস আদেশে কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।