যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকার বাসভবনে হামলা করছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে এমপির মেয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে একদল লোক বাড়ির সামনে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এমপি পরিবারের দাবি, তাদের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার জানায়, অসুস্থতার কারণে তার আচরণ কখনো স্বাভাবিক থাকে, আবার কখনো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিপরীতে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার কয়েকজন শিশু ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়ির প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। এতে বাড়ির কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এমপি পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে তা অবশ্যই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন চিকিৎসাধীন মানসিক রোগীর আচরণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের চেষ্টা এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবার আরও জানায়, অনন্যার চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে তা উপস্থাপন করা হবে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এমপি গোলাম রসুলের পরিবার সকলকে ধৈর্য ধারণ, গুজব ও একপাক্ষিক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আইনগত তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।