জলবায়ু পরিবর্তনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত গাছ লাগানো না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। গাছ রোপণের বর্তমান গতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম এবং এতে জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
বন সংরক্ষণ সংস্থা উডল্যান্ড ট্রাস্টের কর্মকর্তা ক্রিস ম্যাটস বলেন, গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, তাপপ্রবাহে শীতল পরিবেশ তৈরি করতে এবং বন্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নতুন বন তৈরি করতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন বন গড়ার চেয়ে বন কেটে ফেলা অনেক সহজ।’
জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইসিআইইউ) জানিয়েছে, বর্তমান হারে গাছ লাগানো চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ওয়েলস সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যের মাত্র ১০ শতাংশ অর্জন করতে পারবে। একই সময়ে স্কটল্যান্ড তাদের লক্ষ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রায় ৪৮ শতাংশ অর্জনের পথে রয়েছে।
ইসিআইইউর বিশ্লেষক টম ক্যান্টিলন বলেন, এখন কম গাছ লাগানোর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বড় হবে, কারণ একটি গাছকে পর্যাপ্ত কার্বন শোষণক্ষম হতে অনেক বছর সময় লাগে। ফলে এই ঘাটতি পূরণে ভবিষ্যতে আরও বেশি গাছ লাগানো বা অন্য খাতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
কনফেডারেশন অব ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ওয়েলস ব্যবস্থাপক এলেইন হেকলি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে অবিচারের শামিল। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই আবাসন নির্মাণের জন্য আরও বেশি গাছ লাগানো জরুরি।
তবে ওয়েলস সরকার বলেছে, সরকারি পরিসংখ্যানে সব গাছ রোপণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয় না। সরকার জানিয়েছে, তারা গাছ লাগানোর হার বাড়াতে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বনভূমি ও বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।