ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মভূমি ও শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ইরাক থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে করে খামেনির মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়।
দুপুরের পর থেকেই মাশহাদের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে লাখো মানুষের ঢল নামে। সুসজ্জিত একটি ট্রাকে করে প্রয়াত এই নেতার কফিন ধীরগতিতে ইমাম রেজা (আ.)–এর মাজারের দিকে নেওয়া হয়। পথে হাজারো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
তীব্র গরম উপেক্ষা করে দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ। পুরো শহরজুড়ে শোকের আবহের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে প্রতিশোধের স্লোগানও শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠান।
রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো শোকার্ত মানুষের চোখে-মুখে ছিল গভীর শোকের ছায়া। কালো পোশাকে আবৃত এই বিশাল শোকমিছিলে উপস্থিত জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা, প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি এবং নানা স্লোগানসংবলিত লাল রঙের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন।
শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই লাল প্ল্যাকার্ড ও পতাকাগুলো মূলত খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে বহন করা হচ্ছিল।
খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ইমাম রেজা মাজার চত্বরে তার জানাজা ও দাফনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেগত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাকে এ পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি তার বাবা ও স্ত্রীর জানাজায়ও তিনি উপস্থিত হননি।
এদিকে খামেনির দাফনের এই ঐতিহাসিক দিনেও পারস্য উপসাগর ও ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুতে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলায় সেতুর আশপাশের একটি রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করে।