ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সই হওয়া দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) বা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি 'বাতিল ও শেষ' হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কড়া ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চালানো এখন কেবলই "সময়ের অপচয়"।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য ইরানকে দায়ী করে আমেরিকা।
এই ঘটনার জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) গত রাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড সেন্টার এবং উপকূলীয় রাডারসহ ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও নিখুঁত বিমান হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়।
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি ইরানকে "দুষ্ট, অসুস্থ ও নোংরা খেলোয়াড়" হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এই প্রশাসন একটি ক্যান্সারের মতো এবং একে শুরুতেই ছেঁটে ফেলতে হবে। ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে দূরে রাখা।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করে একে "একেবারেই প্রয়োজনীয়" বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের সামগ্রিক ভূমিকায় ট্রাম্প কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে এবং এই আগ্রাসনের জন্য ওয়াশিংটনকে "বিধ্বংসী জবাব" দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।