এক অদ্ভুত বিশ্বব্যবস্থায় এখন আমাদের বসবাস। দরিদ্র দেশ ও দরিদ্র মানুষদের গল্প অবশ্য আলাদা। ওরা বিশ্বব্যবস্থার জন্য দায়ী নয়, বরং ওরা বিশ্বব্যবস্থার শিকার। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় তো বড় বড় অনেক কাজ হচ্ছে। এরমধ্যে মারণাস্ত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। মারণাস্ত্র তো কোনো শখের খেলনা নয়; গুরুতর প্রয়োজনে, ধ্বংসের প্রয়োজনে তৈরি হয় মারণাস্ত্র। ইরাক, আফগানিস্তান, ইউক্রেন, ইরানে আমরা মারণাস্ত্রের ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি, তবে এখানে আলাদা করে বলতে হয় গাজার কথা। ফিলিস্তিনের ভূমিপুত্ররা আজ আপন জনপদে উন্মুল। ওদের জীবন-জীবিকা, ক্ষেত-খামার, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজ, মসজিদÑসবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে। আর এসব করা হয়েছে আলো ঝলমলে এই সভ্যতায় যেখানে জাতিসংঘ আছে, নিরাপত্তা পরিষদ আছে এবং ট্রাম্প-পুতিন-শি’র মতো বিশ্বনেতারা আছেন। এখানে একটি কথা বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন, ইরান যুদ্ধের গল্পটা বিশ্বইতিহাসে বোধহয় অন্যভাবে লেখা হবে। সঠিক কথা, সঠিকভাবে লেখার মতো মানুষ হয়তো থাকবেই না।

ইরান যুদ্ধে শুধু আমেরিক-ইসরাইল ও ইরান যুক্ত নয়, নানা কারণে জড়িয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরো দেশ। এই যুদ্ধে এদের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভীষণভাবে। গণমাধ্যমে তার যৎকিঞ্চিত প্রকাশও পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তেহরানের কাছে ৩০০ কোটি ডলার স্থানান্তর করেছে আবুধাবি। তবে বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমেরিকা-ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের কয়েক সপ্তাহ পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তার কাছে জব্দ থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ছাড় দিতে সম্মত হয়। এর অবশ্য একটি বিনিময় আছে, আর হলোÑআমিরাতে হামলা বন্ধ করতে হবে ইরানকে। রয়টার্স জানায়, ৪০ দিনের সংঘর্ষের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে ইরানের পাল্টা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমিরাত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় আবুধাবি। এর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় আমিরাতের ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের তেল বিক্রির অর্থ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এমন প্রস্তাবের ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যে চলমান সংঘর্ষে আমিরাতে আঘাত হানা থেকে বিরত থাকে তেহরান। সম্প্রতি আমেরিকা-ইসরাইলের আক্রমণের জবাবে ইসরাইলি ভূখণ্ডে এবং কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু পুর্ণ যুদ্ধের সময় আমিরাতে যেভাবে আঘাত হেনেছিল ইরানি সামরিক বাহিনী, তা এখন দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনকে অস্বীকার করে শুক্রবার বিবৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জতাকি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যেখানে ৩০০ কোটি ডলার হস্তান্তরের অভিযোগসহ আমিরাত থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে তহবিল ছাড় দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা এখন কি করবেন, কাকে বিশ্বাস করবেন? একদিকে রয়েছে খ্যাতিমান বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অন্যদিকে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন হয়তো নিজস্ব পদ্ধতিতে তাদের অগ্রসর হতে হবে। তবে একথা সত্য যে, দুইপক্ষের বিপরীতধর্মী বক্তব্য একসাথে সঠিক হতে পারে না। এখানে মিথ্যার সম্ভাবনা আছে। আসলে নীতিহীন বর্তমান সভ্যতায় চাতুর্য ও কূটনীতির নামে মিথ্যা প্রবাহমান রয়েছে। এমন বাস্তবতায় পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে মানুষকে মান্য করতে হবে মহান স্রষ্টাকে এবং সমৃদ্ধ হতে হবে নৈতিক মানদণ্ডে।