গাজীপুরে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program-২০২৬'।

রোববার (১৪ জুন) জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, গাজীপুরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিই সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বর্তমান প্রজন্মকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন উদ্ভাবনই বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদার আসনে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আজকের ছোট একটি উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় উদ্ভাবনে পরিণত হতে পারে। পৃথিবীর অনেক সফল উদ্ভাবনের সূচনা হয়েছিল ক্ষুদ্র পরিসর থেকে। তাই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাবনাময় ও জনকল্যাণমুখী উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে স্মার্ট, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তারা বাস্তবমুখী বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট যাচাই ছাড়া মোটরসাইকেল চালু না হওয়ার প্রযুক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলে সহায়ক ডিভাইস, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ, পরিত্যক্ত ব্যাটারি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং গ্রাফাইট উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিসহ নানা প্রকল্প।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তরুণ উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।