হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে মেয়ের সামনেই বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ৪ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও একই পরিবারের উপর হামলা ও হুমকির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের খলিফাপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল আজম ওরফে আজিম (৩৯) একই এলাকার মৃত ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি দর্জির কাজ করতেন। তার ১ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আজম তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশে হিন্দু বাড়ির সামনের জমিতে মাছ ধরতে যান। এসময় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ২ থেকে ৩ জনের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা আজমকে ধাওয়া দিয়ে হিন্দু বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আজমকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ের চোখের সামনে বাবাকে এভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, যারা আমার স্বামীকে খুন করেছে তাদের নামে আগেও থানায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এখন আমি ৪ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা করব।
এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি তদন্ত মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দিলে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার আজম পুলিশের সোর্স ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকায় পূর্ববিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তার পায়ে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, দিদারুল নামের এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিদারুল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত। তার বিরুদ্ধে থানায় আটটি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।