গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর গ্রামে একটি বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে রাতের আঁধারে বিষ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে খামারের বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। এ ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা নয়ন সরকার। বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা খামারটি ধ্বংসের মুখে পড়ায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
জানা যায়, প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা রবিন মৎস্য খামার-এ দীর্ঘ আট থেকে দশ বছর ধরে রুই, কাতল, মৃগেল, সরপুটি, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন নয়ন সরকার। খামারটিই ছিল তার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।
খামারের মালিক নয়ন সরকার জানান, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো মাছকে খাবার দিতে গিয়ে তিনি পুকুরে কয়েকটি মাছ মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখেন। প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও বৃহস্পতিবার সকালে খামারে গিয়ে তিনি বড় ধরনের বিপর্যয়ের চিত্র দেখতে পান। পুকুরজুড়ে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে ওঠে, পানির রং অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এসব লক্ষণ দেখে তার ধারণা, শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে কেউ পুকুরে বিষ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করেছে।
তিনি বলেন, 'বহু বছরের পরিশ্রমে এই খামার গড়ে তুলেছি। এক রাতেই আমার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা গেছে। এখনও প্রায় তিন হাজার মাছ পুকুরে রয়েছে। সেগুলো বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। পরিবার নিয়ে এখন কীভাবে চলব, সেটাই বুঝতে পারছি না।'
নয়ন সরকার আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি স্থানীয় লোকজন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট মাছ রক্ষায় পুকুরের পানি নিষ্কাশন করে নতুন পানি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করে প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়ন সরকার এলাকায় একজন পরিচিত ও পরিশ্রমী কৃষি উদ্যোক্তা। মাছ চাষের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার খামারে এ ধরনের নাশকতার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন।
এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।