মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার
বাজেট কী? একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের কোন খাতে কোথায় কত ব্যয় ও আয় হবে সরকারের আর্থিক পরিকল্পনার চিত্র প্রতিফলিত হয় বাজেটের মাধ্যমে। বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত এক অর্থবছর) জন্য সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের একটি পূর্বপরিকল্পিত আর্থিক খতিয়ান। এর লক্ষ্য পুরো রাষ্ট্রের কল্যাণ ও উন্নয়ন। এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাজেটের মূল বিষয়সমূহ : ব্যক্তি আগে আয় হিসাব করে, তারপর কোথায় ব্যয় হবে সেগুলো নির্ধারণ করে। অন্যদিকে রাষ্ট্র আগে ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করে। এরপর ঠিক করে, কোথা থেকে অর্থ আসবে। অর্থাৎ সরকার আয় করে খরচ বুঝে আর ব্যক্তি ব্যয় করেন আয় বুঝে। মুলত রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়িয়ে নাগরিকদের কর্মসংস্থান এবং আয়ের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
এক বছরের বাজেটের ভিতরে রাজস্ব আদায় এবং দৈনন্দিন ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য যে ব্যয় তার একটি সামগ্রিক হিসাবকে দেখে থাকি। অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ব্যয়ের পরিকল্পিত সীমা যেন আয়ের সীমা অতিক্রম না করে বা কখনো ঘাটতি থাকলে তা পূরণ কিভাবে হবে তার একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। আয়-ব্যয়ের সমতা রাখা, ঘাটতি থাকলে তা পূরণের পরিকল্পনা করা এবং সম্পদ সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই বাজেটে উদ্দেশ্য।
রাষ্ট্রের আয়ের উৎসগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় প্রত্যক্ষ কর, পরোক্ষ কর ও করবহির্ভূত আয়। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে আছে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর কর (করপোরেট কর), দান কর, উত্তরাধিকার কর, যানবাহন কর, মাদক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি। আর পরোক্ষ কর হচ্ছে আমদানি কর, আবগারি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক–এ রকম নানা ধরনের কর।
সুষম বাজেট ও অসম বাজেট : সুষম বাজেট ও অসম বাজেটের ভিতর অসম বাজেটই সাধারণত বেশী হয় যেখানে আয়-ব্যয় সমান হয় না। অসম বাজেট আবার উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট হতে পারে। ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি হলে সেটি উদ্বৃত্ত বাজেট। ঘাটতি বাজেট হচ্ছে যেখানে ব্যয় বেশি, আয় কম।
ঘাটতি বাজেট হলে বিদেশ থেকে রাষ্ট্র ধার করতে পারে। রাষ্ট্রকেও সে ঋণ পরিশোধ করতে হয়। পরিশোধ না করতে পারলে রাষ্ট্র দেউলিয়া হয় না, তা নয়। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। তবে রাষ্ট্র বছরের পর বছর ঋণ টেনে নেবার সুবিধা পায়। এর উদাহরণ তো বাংলাদেশ। সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাতই হচ্ছে সুদ পরিশোধ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ মোট ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৫.৪৪ শতাংশ। পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধের এই বিশাল ব্যয়ের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক খাতে বরাদ্দ সীমিত হয়ে পড়ে।
উন্নয়ন বাজেট : মূলত রাজস্ব উদ্বৃত্ত ও দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নেওয়া ঋণ নিয়ে উন্নয়ন বাজেট করা হয়। বৈদেশিক উৎস ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ ধার করে সরকার এই বাজেট-ঘাটতি পূরণ করে। সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ থেকে সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ নেয়। বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে পারলে তা অর্থনীতির জন্য বেশি সহনীয়। কারণ, এতে সুদহার কম এবং পরিশোধে অনেক সময় পাওয়া যায়। ব্যাংকিং-ব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য অর্থ থাকবে কম। ফলে বিনিয়োগ কমে যায়। আর ব্যাংকবহির্ভূত-ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিলে বেশি হারে সুদ দিতে হয়। এতে সুদ পরিশোধে সরকারের খরচ বেশি হয়।
কোভিডের অর্থবছর বাদ দিলে দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমেছে গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। এখন বিনিয়োগও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। টানা তিন অর্থবছর ধরে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশে। আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধের ভিতর তেলের বাজারের কারণে মূল্যস্ফীতি আবার উর্ধমুখী ।
মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় দীর্ঘদিন যাবৎ কম থাকায় মানুষের প্রকৃত আয়ও কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগ স্থবিরতায় কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। ফলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনীতির জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে মোট দেশজ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কমে গেছে। মূলত মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষ খরচ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকের আয়ও কমছে। এবার মোট বিনিয়োগের হার হচ্ছে জিডিপির ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর আগে এর তুলনায় কম বিনিয়োগের অর্থবছর ছিল ২০১৩- ১৪ অর্থবছর, ২৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশে টানা ৫০ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম হওয়াতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বিবিএস এর তথ্য (এপ্রিল ‘২৬) অনুযায়ী সার্বিক মূল্যস্ফীতি: ৯.০৪% এবং সার্বিক মজুরি বৃদ্ধি: ৮.১৬% থাকায় অর্থনীতি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। যেমন : বিগত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের পণ্যের দাম বাড়ার গতি আয়ের গতির চেয়ে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, বিনোদন ও পোশাকের পেছনে খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
বিগত সময়ের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার, ভঙ্গুর আর্থিক খাত, ব্যাংকের নাজুক পরিস্থিতি বিশেষ করে অত্যধিক খেলাপি ঋণের প্রভাবের পাশাপাশি গত প্রায় দু’বছরের বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি অর্থনীতির সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্তাদির কারণে বেসরকারি খাত এখনো আস্থাহীন। বিনিয়োগ মন্থর হওয়ায় অর্থনীতির গতিও মন্থর হয়ে আছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতন ঠেকানো যাচ্ছিল না। ডলারের বিপরীতে ক্রমাগত মান হারাচ্ছিল টাকা।
তবে সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচক অনেকটাই সংহতের দিকে ও রিজার্ভ স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। টাকার মানের স্থিতিশীলতা ও লেনদেনের ভারসাম্যও কিছুটা ফিরে এসেছে। অর্থ পাচারের পরিমাণও কিছুটা কমায় বাড়ছে প্রবাসী আয়। কিন্তু ট্যারিফ যুদ্ধের কারণে শঙ্কার সাথে সাথে এখন রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিও শঙ্কায় পড়েছে। কিছু সূচকে স্থিতিশীলতা এলেও সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে বিনিয়োগে স্থবিরতা। ব্যক্তি বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে না । এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিনিয়োগের সব ধরনের বাধা দূর করা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জিডিপি ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৬.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন (জানু’২৬) অনুযায়ী, মানুষের ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে পারলে অর্থনীতির গতি ফিরবে। বিশ্বব্যাংক কিছু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ায় ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সর্বশেষ কম জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে, ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে কোভিডের এ অস্বাভাবিক অর্থবছরটি বাদ দিলে কম প্রবৃদ্ধির সময় ছিল ২০০১-০২ অর্থবছর, ৩.৮০%। যেখানে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট জিডিপির চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩.৪৯%। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.২২%।
বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়া আরেকটি অসনি সঙ্কেত। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৭২ শতাংশে (স্থিতি প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা), যা দেশের ব্যাংকিং খাতের ২৪ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার বৃদ্ধি (পলিসি রেট ১০% ও বাণিজ্যিক ঋণের সুদ প্রায় ১৩-১৫%) এবং ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নজিরবিহীন বিনিয়োগ ধীরগতির পেছনে বেশ কিছু বড় কারণ হলো : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার চেয়ে সরকারি ট্রেজারি বন্ডের মতো ঝুঁকিমুক্ত খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী। ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে ঋণের চাহিদাও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণ নেওয়ার খরচ অনেক বেড়ে গেছে, যা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের এই ধস দীর্ঘমেয়াদে শিল্প উৎপাদন ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতির ক্ষেত্র মন্থর হয়ে যাচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে।
ফলে দেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪ সাল শেষে দেশে মোট বেকার সংখ্যা হয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার। অন্যদিকে ২০২৩ সালে দেশে মোট বেকার ছিল ২৪ লাখ ৬০ হাজার। অর্থাৎ গেল এক বছরে বেকার বেড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার।
মার্কিন অর্থনীতিবিদ থমাস সোয়েল বলেছিলেন, প্রকাশ্যে কর না বাড়িয়ে জনগণের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার একটি উপায় হলো মূল্যস্ফীতি। মুদ্রাস্ফীতি হলো সবচেয়ে সর্বজনীন কর। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ বা সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি অন্যতম কার্যকর সরবরাহ-ভিত্তিক (Supply side) ব্যবস্থা, যা আমাদের অর্থনীতিতে প্রায়ই ব্যাহত হয়।
আইএমএফের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে বিনিময় হার প্রায় বাজারভিত্তিক করা হয়েছে। ফলে গত ৯ মাসে ডলারের দর ১১৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২২ টাকা হয়েছে। অর্থ সরবরাহেও কিছুটা রাশ টানা হয়েছে। কমানো হয়েছে সরকারি বিনিয়োগ। এর প্রভাবে অর্থনীতির গতি ও প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অনেকটা বেড়েছে।
মুল্যস্ফীতি দু’অঙ্কের কাছাকাছি সামান্য কমলেও স্বস্তি দেওয়ার মতো অবস্থানে এখনো যেতে পারেনি। অথচ আশপাশের প্রায় সব দেশ এ ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছে। যেমন ২০২৩ সালেও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ৩১.০ শতাংশ যা এখন ২ শতাংশের কম। শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬৭.০% যা এখন শূন্যেরও নিচে। এখন ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রশ্ন হচ্ছে এই স্থিতিশীলতাকে কীভাবে কাজে লাগানো ও টেকসই হবে।
অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখালেও বাংলাদেশের পক্ষে তা সম্ভব নয়। কারণ ঐ সকল দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাততো আমাদের দেশের মত সরকার সমর্থক লুটেরাদের হাতে পড়েনি। সুদহার কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে। ব্যাংক খাতের রক্তক্ষরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি এখনো হয়নি। এ অবস্থায় অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্য স্ফীতি কমানো আর ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানো ।
সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি গত দু’বছরে একধরনের স্থিতিশীল অবস্থার দিকে এগিয়ে গেছে। যদিও সাফল্যটা এসেছে মূলত বহির্বাণিজ্য খাতে। যেমন বৈদেশিক দায়দেনা পরিশোধ করা হয়েছে, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বেড়েছে, টাকার মূল্যমান কমার পর স্থির হয়েছে, রিজার্ভ বেড়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া অব্যাহত থাকলে, যদি গোপনে টাকা ছাপানো হয়, অর্থনীতি যদি সুশাসনের দিকে না যায়, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। বাজেটে অন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযত ভাবটা আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। এমতাবস্থায় অর্থনীতি যে অনেকটাই স্থিতিশীলতার দিকে সংহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তা ব্যক্তি পর্যায়ে বিনিয়োগ ব্যাপক পরিমাণে বাড়াতে পারবে কি না।
লেখক : ব্যাংকার।